অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বহু প্রতীক্ষিত এক জয় অবশেষে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগাররা ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।
এই জয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় জয় এবং দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সফল দলটির বিপক্ষে নতুন করে জয়ের স্বাদ পেল স্বাগতিকরা।
ব্যাট হাতে বাংলাদেশের লড়াকু সংগ্রহ
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাটাররা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং মধ্য ও শেষ ওভারে দ্রুত রান তুলে দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যান।
প্রথম দিকে কিছু উইকেট হারালেও মধ্যক্রমের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয়। শেষদিকে দ্রুত রান সংগ্রহের ফলে স্কোর ২৮০ পেরিয়ে যায়, যা মিরপুরের উইকেটে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই বড় ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পেস ও স্পিন আক্রমণের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ চাপ সৃষ্টি করে এবং সেই চাপ পুরো ইনিংস জুড়েই বজায় রাখে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ কখনোই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারেনি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে তারা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ে এবং রান তোলার গতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচ চলাকালে আবহাওয়ার কারণে খেলা ব্যাহত হওয়ায় ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। ৪২.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৯১ রান। সংশোধিত লক্ষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ৮৬ রানের জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ভেন্যু: শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর, ঢাকা
- বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৮৪/৮
- অস্ট্রেলিয়া: ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯
- ফলাফল: বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী (ডিএলএস পদ্ধতি)
- সিরিজ অবস্থা: বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক উন্নতি করলেও অস্ট্রেলিয়ার মতো শীর্ষ দলের বিপক্ষে ওয়ানডে জয় সবসময়ই বিশেষ মর্যাদা বহন করে। এই জয় শুধু সিরিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির দিক থেকেও এই ফলাফল বাংলাদেশ দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে গড়া বর্তমান দলটি যে বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতার সক্ষমতা রাখে, সেটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয়কে কেবল একটি ম্যাচ জয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রগতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চাপ সামলে ব্যাটিং, বোলিং ও ম্যাচ ব্যবস্থাপনায় যে পরিপক্বতা বাংলাদেশ দেখিয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে।সংবাদের সূত্রঃ
ESPN Cricinfo