নিউজিল্যান্ডকে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৬ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে ব্যাট হাতে তাওহিদ হৃদয়ের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি, সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেনের কার্যকর ক্যামিও ইনিংসে ভর করে স্মরণীয় এক জয় তুলে নেয় লিটন দাসের দল। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ে কিউইরা। জবাবে ২ ওভার হাতে রেখেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
এটি ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০২৫ সালে চট্টগ্রামেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মন্দ ছিল না বাংলাদেশের। সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩৩ বলে ৪১ রান। সাইফ ১৬ বলে ১৭ রান করে বিদায় নিলে ক্রিজে এসে দ্রুত রান তুলতে থাকেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ইশ সোধির বলে আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ২১ রান করেন টাইগার অধিনায়ক।
এরপর তানজিদও ধীরগতির ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন। ২৫ বলে ২০ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটারের বিদায়ের পর ১১তম ওভারে ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেই চাপ সামাল দিতে দৃঢ়তা ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। দু’জনের ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটি ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেরায় শক্ত অবস্থানে। ইমন মাত্র ১৪ বলে ২৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল একটি চার ও দুটি ছক্কার মার।
ইমন আউট হওয়ার পরও থামেননি হৃদয়। বরং শামীম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন তিনি। পঞ্চম উইকেটে ২১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রানের জুটিতে ১২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেন দু’জন।
তাওহিদ হৃদয় মাত্র ২৬ বলেই তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৫১ রান করে ম্যাচসেরা হন তিনি। অন্যদিকে শামীম হোসেন খেলেন ১৩ বলে ৩১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস, যেখানে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছক্কা।
এর আগে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে শুরুতেই আঘাত হানে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই তাওহিদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন ওপেনার টিম রবিনসন। তবে এরপর কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশি বোলারদের চাপে ফেলেন। পাওয়ার প্লেতে ৬১ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।
ডেন ক্লিভার ২৮ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও একটি ছক্কা। অন্যদিকে কাটেনে ক্লার্কও তুলে নেন ফিফটি। ৩৭ বলে ৫১ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে এই দু’জনের ৮৮ রানের জুটি নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
তবে মিডল অর্ডারে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট ও অধিনায়ক নিক কেলির উইকেট হারিয়ে কিউইরা কিছুটা চাপে পড়ে। শেষদিকে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রানে ভর করে ১৮২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় সফরকারীরা।
বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন দুটি উইকেট নেন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান ও মাহেদি হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
আগামী ২৯ এপ্রিল একই ভেন্যু চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃনিউজিল্যান্ডঃ ১৮২/৬, ২০ ওভার (ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১; রিশাদ ২/৩২)
বাংলাদেশঃ ১৮৩/৪, ১৮ ওভার (হৃদয় ৫১*, শামীম ৩১*; সোধি ২/৪০)
ফলঃ বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরাঃ তাওহিদ হৃদয়
সিরিজঃ ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।