খেলাধূলা

আয়ারল্যান্ড বনাম ইসরায়েল ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক তীব্র, রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে বাড়ছে চাপ

· · ৩৮৬ বার পঠিত
আয়ারল্যান্ড বনাম ইসরায়েল ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক তীব্র, রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে বাড়ছে চাপ

আসন্ন UEFA Nations League এ আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের মধ্যকার ম্যাচকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, ফুটবল সমর্থক গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ম্যাচ বয়কটের দাবি তুললেও Football Association of Ireland (FAI) জানিয়েছে তারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচগুলো আয়োজন করবে।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এবং ৪ অক্টোবর ডাবলিনের Aviva Stadium এ আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ম্যাচ ঘিরে বিরোধিতা দিন দিন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড ও কাতারের মধ্যকার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ চলাকালে দর্শকদের একাংশ ফিলিস্তিনের পতাকা সংবলিত টেনিস বল মাঠে নিক্ষেপ করেন। এর ফলে ম্যাচ দুইবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

এই প্রতিবাদকে অনেকেই আসন্ন ইসরায়েল ম্যাচের বিরুদ্ধে জনমতের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। মাঠজুড়ে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন এবং বিভিন্ন স্লোগানও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

Jamie McGrath এর মন্তব্য
আয়ারল্যান্ডের মিডফিল্ডার Jamie McGrath বলেছেন, খেলোয়াড়রা এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে পড়তে চান না। তাঁর মতে, পরিস্থিতি আগামী কয়েক মাসে আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং বিষয়টির সমাধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই খুঁজে বের করা উচিত।

তিনি বলেন, ফুটবলাররা মূলত খেলাধুলার জন্য মাঠে নামেন এবং রাজনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রে থাকতে চান না। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্যও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

বিতর্ক বাড়লেও Football Association of Ireland স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ম্যাচ বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই। সংস্থাটির মতে, UEFA এবং FIFA এর নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ম্যাচে অংশগ্রহণ না করলে আয়ারল্যান্ডকে শাস্তি, জরিমানা কিংবা প্রতিযোগিতাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

FAI এর নেতৃত্ব বলছে, বিষয়টি কেবল ক্রীড়া সিদ্ধান্ত নয়; আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ম ও প্রতিযোগিতার বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও জড়িত।

আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন ফুটবল সমর্থক সংগঠন, কমিউনিটি গ্রুপ এবং মানবাধিকারকর্মীরা ম্যাচ বয়কটের দাবিতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। Football Association of Ireland এর বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বানের দাবিতেও প্রয়োজনীয় সমর্থন সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বয়কটপন্থীরা দাবি করছেন, গাজা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রশ্নে আয়ারল্যান্ডের অবস্থানের সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

বিষয়টি এখন ক্রীড়াঙ্গনের বাইরে রাজনৈতিক পর্যায়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কয়েকজন রাজনীতিবিদ প্রকাশ্যে ম্যাচ বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে সরকার বলছে, ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ফুটবল কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী Micheál Martin বলেছেন, ম্যাচ বয়কট করলে তা ইসরায়েলের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না; বরং আয়ারল্যান্ডের ফুটবল স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উদ্বেগ এবং মানবাধিকার প্রশ্নে আয়ারল্যান্ডের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ইসরায়েল ফুটবল এসোসিয়েশন আয়ারল্যান্ডে চলমান প্রতিবাদকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘রাজনৈতিক’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচ খেলতে তারা প্রস্তুত এবং কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা যুদ্ধ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আয়ারল্যান্ড ইউরোপের অন্যতম দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান এবং মানবাধিকার প্রশ্নে সরব ভূমিকার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন এখন ফুটবল মাঠেও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যেও আলোচনা
আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মতামত প্রকাশ করা হচ্ছে।

অনেকেই মনে করছেন, আসন্ন ম্যাচগুলো শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মানবাধিকার এবং ক্রীড়া কূটনীতির জটিল সম্পর্ককেও সামনে নিয়ে এসেছে।

আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের মধ্যকার আসন্ন Nations League ম্যাচ এখন কেবল ফুটবল ইভেন্ট নয়; এটি পরিণত হয়েছে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কে। আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সংবাদের সূত্রঃ
BBC Sport NI, UEFA সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং আয়ারল্যান্ডের ফুটবল ও রাজনৈতিক মহলের প্রকাশিত বক্তব্য।

Enter চাপুন বা বাটনে ক্লিক করুন  ·  ESC দিয়ে বন্ধ করুন

EN
বিশ্ব কমিউনিটি বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড খেলাধূলা তথ্য প্রযুক্তি