কমিউনিটি

আয়ারল্যান্ডে ‘ Undelivered’ পাসপোর্ট বিতরণ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি নিরসনে ABAI এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা

· · ৪২৭ বার পঠিত
আয়ারল্যান্ডে ‘ Undelivered’ পাসপোর্ট বিতরণ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি নিরসনে ABAI এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা

আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ফেরত আসা (undelivered) পাসপোর্ট বিতরণকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিতর্ক ও বিভ্রান্তি নিরসনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করেছে অল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ আয়ারল্যান্ড (আবাই)। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক আনোয়ার একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট, লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের ভূমিকা এবং এই প্রক্রিয়ায় আবাই এর সম্পৃক্ততার বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

উক্ত ভিডিও বার্তায় সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ জলিল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সদস্য আলমাস আলী, কামাল, তনয় এবং অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ।

সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি বা তার পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডন (BHCL) থেকে আয়ারল্যান্ডে পাঠানো বেশ কিছু ই-পাসপোর্ট ঠিকানাগত ভুল বা ডাক সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ‘রয়্যাল মেইল’ এর মাধ্যমে ‘রিটার্ন টু সেন্ডার’ হিসেবে হাই কমিশনে ফেরত যায়। BHCL অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি মিশন হওয়ায় অনেক প্রবাসী ইমেইল বা ফোনে যোগাযোগ করে কাঙ্ক্ষিত সেবা বা তথ্য পাচ্ছিলেন না। এমতাবস্থায়, পাসপোর্ট না পাওয়া প্রবাসীরা দীর্ঘ দিন ধরে সহযোগিতার জন্য নিয়মিতভাবে আবাইয়ের শরণাপন্ন হতে থাকেন।

বিগত ২৫ ও ২৬শে এপ্রিল লিমেরিকে আয়োজিত কনসুলার সেবা চলাকালীন হাই কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উক্ত ফেরত আসা পাসপোর্টগুলো সাথে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকে যোগাযোগ করা অনেকেই সরাসরি উপস্থিত হয়ে তাদের পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। অবশিষ্ট পাসপোর্টগুলো পুনরায় লন্ডনে ফেরত না পাঠিয়ে আয়ারল্যান্ডেই সংরক্ষণের জন্য BHCL এর কর্মকর্তারা আবাই কে অনুরোধ করেন। যেহেতু আবাই একটি নিবন্ধিত ও নির্বাচিত প্রতিনিধি সংগঠন এবং সাধারণ প্রবাসীদের সাথে তাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, তাই কর্মকর্তাদের বিশেষ অনুরোধে মানবিক কারণে তারা এই এনভেলাপগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

তথ্য সুরক্ষা (GDPR) ও বিতরণ প্রক্রিয়াঃ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাসপোর্টের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা (GDPR) সংক্রান্ত বিতর্কের জবাবে সেক্রেটারি জানান, তারা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কেবল মানুষের সহায়তার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করেছেন। হাই কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নামের তালিকা অনুসরণ করে সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন কাউন্টিতে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন এবং অধিকাংশ পাসপোর্ট প্রকৃত মালিকদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে যারা দীর্ঘ দিন পর পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন, তারা অত্যন্ত সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে কেবল দুটি এনভেলাপ বিতরণের অপেক্ষায় আছে।

মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংগঠনের অবস্থানঃ

ভিডিও বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, অনেক প্রবাসীর ওয়ার্ক পারমিট রিনিউয়াল, ভিসা এক্সটেনশন কিংবা জরুরি ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট অপরিহার্য ছিল। এই মানবিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই সম্পূর্ণ সেবামূলক ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আবাই এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে এবং এর সাথে হাই কমিশনের কোনো আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক নেই। আনোয়ার বলেন, "আবাই গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায় এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতি"। তবে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন এই মহতী উদ্যোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আয়ারল্যান্ডবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিখোঁজ পাসপোর্টের জন্য সহায়তাঃ
পরিশেষে জানানো হয়, এখনো যাদের পাসপোর্ট ‘missing’ রয়েছে বা যারা পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন, তারা যেন সরাসরি সংগঠনের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেন। প্রয়োজনে এনরোলমেন্ট কপির (enrollment copy) মাধ্যমে হাই কমিশনের সাথে যোগাযোগ করে প্রবাসীদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে আবাই।

Enter চাপুন বা বাটনে ক্লিক করুন  ·  ESC দিয়ে বন্ধ করুন

EN
বিশ্ব কমিউনিটি বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড খেলাধূলা তথ্য প্রযুক্তি