খেলাধুলা আমাদেরকে শারীরিক এবং মানসিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলা আমাদের মাঝে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারেঃ পারস্পরিক সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্যবদ্ধতা, সততা, উপস্থিত বুদ্ধি, সহনশীলতা, আত্মসম্মানবোধ, জাতীয়তাবোধ, উদারতা, ক্ষমাশীলতা এবং যে কোনো পরাজয়ে ভেঙে না পড়ে বরং আগামী দিনের জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
মানব চরিত্র প্রতিভা-নির্ভর নয়, নিতান্তই অনুশীলন-সাপেক্ষ। চরিত্র গঠনের ব্যাপারে পরিবারের গুরুত্ব অপরিসীম। মানবজীবনের শুরু পারিবারিক গণ্ডির মধ্যেই। কথায় বলে, “Home is the first school”। পরিবারের মধ্যেই শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা লাভ ঘটে। আবার চরিত্র গঠনেরও প্রাথমিক ক্ষেত্র হলো পরিবার। পারিবারিক গণ্ডির মধ্য থেকে চরিত্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা লাভ করা যায়, তবে পরিবারের বাইরে রয়েছে বিশাল বিস্তৃত জগৎ। সেখানে পরিবেশ ও পরিস্থিতি ভিন্ন প্রকৃতির। পারিবারিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিশু মানব চরিত্র সম্পর্কে যে প্রাথমিক ধারণাটুকু লাভ করে, বাড়ির বাইরে সেগুলি প্রয়োগ করার সুযোগ থাকে। বলা বাহুল্য, একথা এখন প্রমাণিত যে, চরিত্র গঠন, তার বিকাশ এবং ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগের ব্যাপারে খেলাধুলা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
খেলাধুলার ইতিবাচক দিক
- খেলাধুলা একজন স্পোর্টসম্যানের মনে আনন্দ জাগায় এবং আত্মতৃপ্তি এনে দেয়। আনন্দময় পরিবেশ একজন মানুষের সৎ গুণাবলির বিকাশে সহায়ক।
- খেলাধুলা একটি সমষ্টিগত বিষয় বা টিমওয়ার্ক। এর মাধ্যমে একজন মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা দূর হয় এবং সম্মিলিতভাবে যে কোনো কঠিন কাজ একসঙ্গে সম্পন্ন করার মানসিকতা গড়ে ওঠে।
- খেলায় জয়লাভের জন্য সহখেলোয়াড়দের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। এর ফলে পারস্পরিক সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায় এবং সেই সহমর্মিতা থেকে জন্ম নেয় মমত্ববোধ, ভ্রাতৃত্ব ও উদারতা।
- জীবনপথে সততার মূল্য অপরিসীম। খেলাধুলা আমাদেরকে সৎ পথে থাকতে উৎসাহিত করে এবং সাহায্য করে। খেলাধুলার ক্ষেত্রে অসত্য ও অসদাচরণের কোনো স্থান নেই।
- বলাবাহুল্য, মানসিক কাঠামোকে সুন্দর করার পাশাপাশি খেলাধুলা দৈহিক সুস্থতা ও শারীরিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।
- উদ্যমী, সাহসী ও পরমসহিষ্ণু মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্যও খেলাধুলা একটি আদর্শ মাধ্যম।
অতএব, সামাজিক অবক্ষয় রোধের জন্যও খেলাধুলার প্রচার ও প্রসার ঘটানো প্রতিটি জাতির একটি প্রাথমিক ও আবশ্যিক কর্তব্য হওয়া উচিত।
ডা. মুসাব্বির হোসাইন
MBBS (Dhaka)
MRCP (Ireland), MRCP (Glasg)
Diploma in Elderly Medicine (RCPI)
Diploma in Stroke and Cerebrovascular Medicine (RCPI)
Consultant Physician
Portiuncula University Hospital, Republic of Ireland