আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের ব্ল্যাঞ্চার্ডস্টাউন এলাকায় এখন আকাশপথে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ড্রোন। প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবা পরিচালনা করছে আইরিশ প্রতিষ্ঠান Manna Aero, যারা কয়েক বছরের মধ্যেই ইউরোপের অন্যতম আলোচিত drone delivery কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে takeaway খাবার, কফি কিংবা ছোট পণ্য গ্রাহকের বাড়ির সামনে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রযুক্তি যেমন অনেকের কাছে ভবিষ্যতের নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কাছে এটি শব্দদূষণ, গোপনীয়তা এবং পরিবেশগত উদ্বেগের নতুন কারণ হিসেবেও দেখা দিচ্ছে।
Manna Aero প্রতিষ্ঠা করেন আইরিশ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা Bobby Healy। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি শুরু থেকেই “ultra-fast suburban delivery” ধারণাকে কেন্দ্র করে কাজ শুরু করে। তাদের লক্ষ্য ছিল শহরের যানজট কমিয়ে কম সময় ও কম কার্বন নিঃসরণে খাবার ও ছোট পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
প্রথম দিকে সীমিত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর পর Manna ধীরে ধীরে ডাবলিনের পশ্চিমাঞ্চলে কার্যক্রম বিস্তৃত করে। বর্তমানে ব্ল্যাঞ্চার্ডস্টাউন এলাকায় তাদের ড্রোন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন restaurant, takeaway outlet এবং grocery partner এর পণ্য সরবরাহ করছে।
Manna এর দাবি অনুযায়ী, তাদের ড্রোন সাধারণত তিন মিনিটের মধ্যেই খাবার পৌঁছে দিতে সক্ষম। ড্রোনগুলো প্রায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে উড়ে নির্দিষ্ট বাড়ির ওপরে গিয়ে একটি biodegradable tether বা বিশেষ দড়ির মাধ্যমে খাবার নামিয়ে দেয়।
ব্ল্যাঞ্চার্ডস্টাউন এলাকার অনেক গ্রাহক এই সেবাকে অত্যন্ত সুবিধাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়, যানজট অথবা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে দ্রুত খাবার পাওয়ার কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সেবার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীও বলছেন, drone delivery চালুর পর তাদের online order বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে fast-food outlet, coffee shop এবং takeaway ব্যবসাগুলো নতুন গ্রাহক পাচ্ছে।
তবে এই প্রযুক্তিনির্ভর সেবাকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। ব্ল্যাঞ্চার্ডস্টাউনের অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, ড্রোনের শব্দ শান্ত আবাসিক এলাকায় বিরক্তিকর হয়ে উঠছে। কেউ কেউ এটিকে “loud and intrusive noise” বলেও বর্ণনা করেছেন।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, দিনের বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত ড্রোন উড়তে থাকায় তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং জীবনযাত্রার স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং sensory sensitivity থাকা মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
কিছু রাজনৈতিক প্রতিনিধি এবং community group পরিকল্পনা অনুমোদন ও drone hub স্থাপনের আগে আরও বড় পরিসরে জনমত নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
Manna এর কিছু drone hub নিয়ে পরিকল্পনা অনুমোদন সম্পর্কিত বিতর্কও সামনে এসেছে। Fingal County Council এবং অন্যান্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগ ও আপত্তি জমা পড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে planning permission এবং zoning policy নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ডাবলিনের বিভিন্ন এলাকায় drone hub সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে কিছু প্রকল্প জটিলতার মুখে পড়েছে।
Manna শুধু ডাবলিনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। কোম্পানিটি ইতোমধ্যে ফিনল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে আয়ারল্যান্ডের আরও বড় অংশ, বিশেষ করে কর্ক, তালা, ডানড্রাম এবং অন্যান্য শহরতলিতে drone delivery সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কোম্পানিটি robotics, aviation operation এবং software engineering খাতে শত শত নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ঘোষণাও দিয়েছে। Manna এর মতে, ভবিষ্যতের নগর সরবরাহ ব্যবস্থা আকাশপথকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে।
Manna দাবি করছে, drone delivery গাড়িভিত্তিক delivery এর তুলনায় কম কার্বন নিঃসরণ করে এবং সড়কের যানজট কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার ঘটার আগে জাতীয় পর্যায়ে পরিষ্কার আইন, শব্দ নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং privacy guideline তৈরি করা জরুরি।
আইরিশ পার্লামেন্টেও commercial drone regulation নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে residential area তে drone traffic বৃদ্ধি পাওয়ার আগে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জোরদার হচ্ছে।
ব্ল্যাঞ্চার্ডস্টাউনের আকাশে উড়তে থাকা খাবারবাহী ড্রোন এখন শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রতীক নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের নগর জীবন, পরিবেশ, গোপনীয়তা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন এক বাস্তবতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ডাবলিনের ব্ল্যাঞ্চার্ডস্টাউনে drone food delivery এখন আয়ারল্যান্ডের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। কেউ এটিকে ভবিষ্যতের পরিবহন ও delivery ব্যবস্থার বিপ্লব হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে আবাসিক জীবনের নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
সংবাদের সূত্রঃManna Aero Official Website