আয়ারল্যান্ডে হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগীর চাপ আবারও জাতীয় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জরুরি বিভাগ, ভর্তি ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের শয্যা সংকট এবং জরুরি বিভাগের অতিরিক্ত ভিড় এখন স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শত শত রোগী শয্যা না পেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক রোগীকে ওয়ার্ডে স্থান না থাকায় ট্রলি বা অস্থায়ী স্থানে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা বলছেন, এতে শুধু রোগীদের দুর্ভোগই বাড়ছে না, চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়ারল্যান্ডে হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগী চাপের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়া, মৌসুমি রোগের প্রাদুর্ভাব, হাসপাতালের শয্যা সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনার ঘাটতি অন্যতম।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালের অবকাঠামো একই হারে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব তৈরি হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। একই সঙ্গে কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এতে অনেক রোগীকে হাসপাতালের বাইরে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
হাসপাতালের অতিরিক্ত ভিড় শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার সমস্যা নয়, এটি দেশের অবকাঠামো এবং জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা সক্ষমতা বৃদ্ধি না হলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।
আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত অথবা পরিবারসহ চিকিৎসা সেবার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য হাসপাতালের দীর্ঘ অপেক্ষা ও অতিরিক্ত চাপ বাস্তব জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদের সূত্রঃHSE & Irish Health Service Reports