আয়ারল্যান্ডে অ্যালকোহল সেবনের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে ‘নিম্ন ঝুঁকি’ নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়, তা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে Health Information and Quality Authority (HIQA)। সংস্থাটি অ্যালকোহল সেবনের বিভিন্ন মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য একটি বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনা করছে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী, নারীদের জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১১টি এবং পুরুষদের জন্য সর্বোচ্চ ১৭টি স্ট্যান্ডার্ড ড্রিংককে নিম্ন ঝুঁকির সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই নির্দেশিকা সর্বশেষ ২০১৫ সালে হালনাগাদ করা হয়েছিল। এরপর গত এক দশকে অ্যালকোহলের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে উল্লেখযোগ্য নতুন গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, যা পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
কী নিয়ে কাজ করছে HIQA
স্বাস্থ্য বিভাগের অনুরোধে HIQA বর্তমানে এমন একটি মডেল তৈরি করছে, যা বিভিন্ন মাত্রায় অ্যালকোহল সেবনের ফলে মৃত্যুহার এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি নির্ধারণ করবে। গবেষণাটি শুধু কতটুকু অ্যালকোহল পান করা হয় তা নয়, কত ঘন ঘন পান করা হয় এবং একসঙ্গে কতটুকু পান করা হয়, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নেবে।
HIQA জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাজ্যে যেভাবে অ্যালকোহল সেবন নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হয়েছে, আয়ারল্যান্ডেও অনুরূপ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৬ সালে প্রকাশের কথা রয়েছে এবং সেটিই নতুন নির্দেশিকা তৈরির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
বর্তমান নির্দেশিকায় কী বলা আছে
আয়ারল্যান্ডের বিদ্যমান নিম্ন ঝুঁকির অ্যালকোহল নির্দেশিকায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ রয়েছে, তা হলোঃ
- নারীদের জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১১টি স্ট্যান্ডার্ড ড্রিংক
- পুরুষদের জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৭টি স্ট্যান্ডার্ড ড্রিংক
- সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন অ্যালকোহলমুক্ত থাকা
- একটি আসরে ৬টির বেশি স্ট্যান্ডার্ড ড্রিংক গ্রহণ না করা
- পুরো সপ্তাহে পানীয় গ্রহণ ছড়িয়ে দেওয়া
HSE এর মতে, অ্যালকোহল যত কম গ্রহণ করা হবে, স্বাস্থ্যঝুঁকিও তত কম হবে। বিশেষ করে একসঙ্গে অতিরিক্ত পান করা বা ‘বিঞ্জ ড্রিংকিং’ স্বাস্থ্যগত ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো অ্যালকোহল এবং ক্যান্সার, হৃদরোগ, লিভারের রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে। কিছু দেশে পূর্বের তুলনায় আরও কঠোর নির্দেশিকা চালু করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, পূর্বে যেসব মাত্রাকে তুলনামূলক নিরাপদ ধরা হতো, নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে সেসব মাত্রাতেও নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে যেতে পারে। এ কারণেই আয়ারল্যান্ডের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বর্তমান নির্দেশিকাগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করছে।
অ্যালকোহলজনিত ক্ষতি কমাতে আয়ারল্যান্ড গত কয়েক বছরে একাধিক জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ন্যূনতম ইউনিট মূল্য (Minimum Unit Pricing), অ্যালকোহল বিপণন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য সতর্কতামূলক লেবেলিংয়ের মতো পদক্ষেপ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হালনাগাদ নির্দেশিকা এসব উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারী বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্যও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ এবং পরিবারভিত্তিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা সম্পর্কে অবগত থাকা প্রয়োজন। নতুন নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে তা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
HIQA এর চলমান মূল্যায়ন এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি। তবে এখন পর্যন্ত যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আয়ারল্যান্ডের বর্তমান নিম্ন ঝুঁকির অ্যালকোহল নির্দেশিকা আগের তুলনায় আরও সতর্ক ও কঠোর হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লক্ষ্য অ্যালকোহল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা নয়; বরং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকদের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দেওয়া।সংবাদের সূত্রঃ
HIQA, HSE, Department of Health, Medical Independent এবং আইরিশ নিউজ মিডিয়া।