আয়ারল্যান্ড সরকার দেশটির কর্মসংস্থান পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। Minister Neale Richmond জানিয়েছেন, নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় ৪৩টি অতিরিক্ত পেশাকে Employment Permit এর আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্যাটাগরির কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতনসীমাও ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
সরকারের ভাষ্যমতে, বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, কৃষি এবং কারিগরি খাতে বিদেশি কর্মীদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই বাস্তবতায় Employment Permit ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
নতুন ঘোষণায় Electrician, Electrical Engineer, Car Mechanic, HGV Mechanic, Baker, Butcher, Furniture Maker, Social Care Worker, Support Worker এবং বিভিন্ন Disability Services সংশ্লিষ্ট পেশাকে General Employment Permit এর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া Chemical Engineer, Project Engineer, Meteorologist এবং BIM Manager এর মতো কয়েকটি পেশা Critical Skills Occupations List এ যুক্ত করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, Employment Permit ব্যবস্থার এই সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য হলো নির্মাণ খাত, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষ কর্মীর সংকট কমানো। Minister Neale Richmond বলেন, বিদেশি দক্ষ কর্মীরা আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং দেশের বিভিন্ন খাত সচল রাখতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, General Employment Permit এর জন্য বর্তমান ন্যূনতম বেতনসীমা ৩০ হাজার ইউরো থেকে বাড়িয়ে ৩৪ হাজার ইউরো করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি আরও বৃদ্ধি পাবে। Healthcare Assistant, Home Carer, Meat Processing এবং Horticultural Workers দের ক্ষেত্রেও বেতনসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের তথ্যমতে, গত বছর আয়ারল্যান্ডে প্রায় ৪০ হাজার Employment Permit ইস্যু করা হয়েছিল। চলতি বছরেও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলভুক্ত দেশের বাইরে থেকে হাজার হাজার কর্মী বিভিন্ন খাতে কাজ করতে আয়ারল্যান্ডে এসেছেন। দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আয়ারল্যান্ড সরকার একই সঙ্গে আবাসন, জ্বালানি, অবকাঠামো ও শ্রমবাজারের চাপ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার বলছে, বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দক্ষ কর্মীর চাহিদা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, Employment Permit ব্যবস্থার সম্প্রসারণ আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে একই সঙ্গে আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত চাপের বিষয়গুলোও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগঃবিশেষ করে Electrician, Car Mechanic, HGV Mechanic, Baker, Social Care Worker, Support Worker, Healthcare এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশায় অভিজ্ঞ বাংলাদেশীরা এখন আয়ারল্যান্ডে বৈধভাবে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। নির্মাণ খাত, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের শ্রমিক সংকটের কারণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া নতুন বেতনসীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশি কর্মীদের আয়, পরিবার পুনর্মিলন সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগও আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হতে পারে। যদি বাংলাদেশী তরুণরা আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি দক্ষতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান এবং স্বীকৃত প্রশিক্ষণ অর্জন করেন, তাদের জন্য আয়ারল্যান্ডের চাকরির বাজার আগামী বছরগুলোতে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
আমি মনে করি, এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে বাংলাদেশী আবেদনকারীদের কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ইংরেজিতে অত্যন্ত ভালো যোগাযোগ দক্ষতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের কর্মক্ষেত্রে গ্রাহকসেবা, নিরাপত্তা নির্দেশনা, দলগত কাজ এবং পেশাগত যোগাযোগের জন্য সাবলীল ইংরেজি ভাষাজ্ঞানকে বড় গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইংরেজিতে কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যতে চাকরির সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংবাদের সূত্রঃDepartment of Enterprise, Trade and Employment