আয়ারল্যান্ড

৫০:৫০ কর্মী নিয়মে বিপাকে নার্সিং হোম খাত, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে অনিশ্চয়তায় বহু non-EU কর্মী

· · ৪২২ বার পঠিত
৫০:৫০ কর্মী নিয়মে বিপাকে নার্সিং হোম খাত, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে অনিশ্চয়তায় বহু non-EU কর্মী

আয়ারল্যান্ডের নার্সিং হোম ও দীর্ঘমেয়াদী সেবাখাতে কর্মরত বহু non-EU স্বাস্থ্যকর্মী ও Healthcare Assistant বর্তমানে কর্মসংস্থান পারমিট নবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। কর্মসংস্থান পারমিট ব্যবস্থার বহুল আলোচিত ‘৫০:৫০ নিয়ম’ কঠোরভাবে প্রয়োগ হওয়ায় বেশ কিছু আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কারণ আয়ারল্যান্ডের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক কর্মীদের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীদের ছাড়া নার্সিং হোম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কী এই ৫০:৫০ নিয়ম?
আয়ারল্যান্ডের Employment Permits Act অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন বা নবায়নকৃত কর্মসংস্থান পারমিট পাওয়ার জন্য আবেদন করলে সেই প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মীকে আইরিশ, EU, EEA, UK বা সুইস নাগরিক হতে হবে। এই বিধানকেই সাধারণভাবে ‘৫০:৫০ নিয়ম’ বলা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।

কেন সমস্যায় পড়ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা?
Migrant Nurses Ireland এবং অন্যান্য সংগঠনের দাবি, অনেক Healthcare Assistant, Care Worker ও নার্স কয়েক বছর ধরে বৈধভাবে আয়ারল্যান্ডে কাজ করছেন। কিন্তু তাদের নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান ৫০:৫০ অনুপাত পূরণ করতে না পারায় পারমিট নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। এর ফলে কর্মীদের ভবিষ্যৎ, বসবাসের অনুমতি এবং পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।

সংগঠনগুলোর মতে, কিছু ক্ষেত্রে কর্মীরা কোনো নিয়ম ভঙ্গ না করলেও প্রতিষ্ঠানের কর্মী অনুপাতের কারণে তারা প্রশাসনিক জটিলতার শিকার হচ্ছেন। এতে কর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

বহু কর্মী প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। কেউ কেউ বিকল্প নিয়োগকর্তার কাছে চাকরি পরিবর্তন করতে সক্ষম হলেও অনেকে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

পারমিট নবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর Irish Residence Permission (IRP) প্রভাবিত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের ভিসা বা বসবাসের অনুমতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

নার্সিং হোম খাতের উদ্বেগ
নার্সিং হোম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের বয়স্কসেবা খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভর করে দৈনন্দিন সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তাদের আশঙ্কা, ৫০:৫০ নিয়মের কঠোর প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে কর্মী সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং বয়স্কদের জন্য সেবার মান ও ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সরকার কী বলছে?
Department of Enterprise, Tourism and Employment জানিয়েছে, সকল কর্মসংস্থান পারমিট আবেদন বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয় এবং ৫০:৫০ নিয়মও সেই মূল্যায়নের অংশ। তবে সরকার স্বীকার করেছে যে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতে কর্মী সংকট একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ।

সম্প্রতি Enterprise Minister Peter Burke ঘোষণা করেছেন যে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতে ৫০:৫০ নিয়মের প্রভাব পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং এই খাতে আরও নমনীয়তা আনার লক্ষ্যে আইন সংশোধনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নার্সিং হোম, হোম কেয়ার এবং Disability Care খাতে কর্মী সংকট মোকাবিলায় পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

পরিবর্তনের সম্ভাবনা
সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতে কর্মী সংকটের কারণে ৫০:৫০ নিয়মের কঠোর প্রয়োগ কখনও কখনও সেবার ধারাবাহিকতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যসেবা পেশার জন্য বিশেষ ছাড় বা অতিরিক্ত নমনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন কার্যকর করতে আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আয়ারল্যান্ডে কর্মরত বাংলাদেশী Healthcare Assistant, Care Worker, Home Carer এবং নার্সদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ General Employment Permit এর আওতায় কাজ করেন। ফলে ৫০:৫০ নিয়মের পরিবর্তন বা পর্যালোচনা সরাসরি তাদের কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে যারা পারমিট নবায়নের অপেক্ষায় আছেন অথবা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজের জন্য আয়ারল্যান্ডে আসার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই নীতিগত পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বর্তমান অবস্থায় কী করা উচিত?
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব কর্মীর পারমিট নবায়নের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তাদের নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজনে পেশাদার অভিবাসন পরামর্শ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সরকারের সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখা উচিত।

আয়ারল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা খাত বর্তমানে আন্তর্জাতিক কর্মীদের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। সরকার যদি স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতে ৫০:৫০ নিয়মে নমনীয়তা আনে, তাহলে তা কর্মী সংকট মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৫০:৫০ কর্মী অনুপাতের নিয়ম বর্তমানে বহু non-EU স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সরকার নিয়মটি পুনর্বিবেচনা করছে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্মী, নিয়োগকর্তা এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের নজর সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

সংবাদের সূত্রঃ
Department of Enterprise, Tourism and Employment, Oireachtas, Migrant Nurses Ireland এবং Employment Permits Review সংক্রান্ত সরকারি তথ্য।

Enter চাপুন বা বাটনে ক্লিক করুন  ·  ESC দিয়ে বন্ধ করুন

EN
বিশ্ব কমিউনিটি বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড খেলাধূলা তথ্য প্রযুক্তি