আয়ারল্যান্ডে Short-Term Rental বা স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়া ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে বাধ্যতামূলকভাবে Short-Term Let Register কার্যকর হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, Airbnb সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে স্বল্পমেয়াদে বাসা বা কক্ষ ভাড়া দিতে চাইলে মালিকদের Fáilte Ireland এর অধীনে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো Short-Term Let পরিচালনা করা যাবে না বলে সরকার জানিয়েছে।
সরকারের ভাষ্যমতে, ডাবলিন, কর্ক, গলওয়ে এবং অন্যান্য শহরে দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট বাড়তে থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, অনেক বাড়ি দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার বাজার থেকে সরিয়ে Short-Term Rental হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ ভাড়াটিয়াদের জন্য বাসা সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
নতুন নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি Short-Term Rental Property এর বিস্তারিত তথ্য সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এতে কোন এলাকায় কতগুলো Short-Term Let পরিচালিত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।
সরকার আরও জানিয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আবাসন খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আইন ও পরিকল্পনা নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতের ভারসাম্য বজায় রেখেও আবাসন সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করা হবে।
আয়ারল্যান্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়িভাড়া এবং বাড়ির মূল্য দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পেছনে আবাসন সরবরাহ সংকট অন্যতম বড় কারণ। বিশেষ করে Dublin এর মতো শহরে অনেক Property দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার পরিবর্তে পর্যটকদের জন্য Short-Term Rental এ রূপান্তরিত হওয়ায় ভাড়ার বাজারে চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে Airbnb এবং অন্যান্য Short-Term Rental প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত অনেক Property Owner বলছেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ছোট ব্যবসা ও পর্যটন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, অনেক পরিবার অতিরিক্ত আয়ের জন্য Short-Term Let এর ওপর নির্ভরশীল।
তবে সরকার বলছে, নতুন নিবন্ধন ব্যবস্থা পর্যটন খাত বন্ধ করার জন্য নয়; বরং আবাসন ও পর্যটনের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশী কমিউনিটির ওপর সম্ভাব্য প্রভাবঃবিশ্লেষকদের মতে, আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির ওপরও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা Airbnb বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে বাসা বা কক্ষ ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত আয় করেন, তাদের নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন ও সরকারি নীতিমালা মেনে চলতে হতে পারে।
অন্যদিকে অনেক বাংলাদেশী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ভাড়া এবং বাসা সংকটের সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায়, সরকার যদি দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার বাজারে আরও বাড়ি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ভাড়াটিয়াদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংবাদের সূত্রঃDepartment of Tourism, Culture, Arts, Gaeltacht, Sport and Media