আয়ারল্যান্ডে বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকটের কারণে বহু নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবার সোশ্যাল হাউজিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। অনেকেই মনে করেন এটি শুধু কাউন্সিলের বাড়ি পাওয়ার ব্যবস্থা, কিন্তু বাস্তবে সোশ্যাল হাউজিংয়ের আওতায় কাউন্সিলের বাড়ি, অনুমোদিত আবাসন সংস্থা, দীর্ঘমেয়াদি ভাড়া সহায়তা এবং অন্যান্য সরকারি আবাসন সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এমন পরিবারকে নিরাপদ বাসস্থানের সুযোগ দেওয়া, যাদের নিজস্ব আয় দিয়ে উপযুক্ত বাসস্থান পাওয়া কঠিন।
কারা আবেদন করতে পারবেন?সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং আয়ারল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের বৈধ অধিকার থাকতে হবে। আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি নিজের আয় বা সম্পদ দিয়ে উপযুক্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছেন না।
এছাড়া সাধারণত নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়ঃ
- সংশ্লিষ্ট কাউন্সিল এলাকার সঙ্গে বাস্তব সংযোগ থাকতে হবে
- আয়ারল্যান্ড বা অন্য দেশে নিজের নামে বসবাসযোগ্য বাড়ি থাকা যাবে না
- পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে
- আবেদনকারী একবারে একটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছেই আবেদন করতে পারবেন
সোশ্যাল হাউজিংয়ের আয়সীমা এলাকাভেদে আলাদা হয়। এটি পরিবারের নেট আয় অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়, অর্থাৎ কর ও অন্যান্য নির্ধারিত কর্তন বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত আয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
উদাহরণ হিসেবে ডাবলিন অঞ্চলে সাধারণত একক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রায় €৪০,০০০ পর্যন্ত এবং পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে আয়সীমাও কিছুটা বাড়তে পারে। পরিবারে সন্তান, নির্ভরশীল সদস্য এবং যৌথ আয় বিবেচনা করা হয়।
সন্তানের সংখ্যা কি প্রভাব ফেলে?হ্যাঁ। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং সন্তানদের সংখ্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ বাসস্থানের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের সময় কাউন্সিল পরিবারে কতজন সদস্য আছেন, শিশুদের বয়স কত এবং বর্তমানে কতটা সংকুচিত পরিবেশে পরিবার বসবাস করছে তা বিবেচনা করে।
উদাহরণস্বরূপঃ- এক দম্পতি ও এক সন্তান
- এক দম্পতি ও তিন সন্তান
- একক অভিভাবক ও দুই সন্তান
এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শোবার কক্ষের সংখ্যা ভিন্নভাবে বিবেচিত হয়।
কীভাবে আবেদন করবেন?সাধারণত নিজের স্থানীয় কাউন্সিলের আবাসন বিভাগে আবেদন করতে হয়। আবেদন ফর্ম কাউন্সিলের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যায় অথবা সরাসরি অফিস থেকেও পাওয়া যায়।
আবেদনের সময় সাধারণত প্রয়োজন হতে পারেঃ- পাসপোর্ট বা ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র
- পিপিএস নম্বর
- বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ
- বেতন স্লিপ
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট
- আয় সম্পর্কিত কাগজপত্র
- সন্তানদের জন্মসনদ
- চিকিৎসা বা প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত তথ্য (যদি থাকে)
- ভাড়ার তথ্য
সব আবেদন একইভাবে বিবেচনা করা হয় না। কিছু ক্ষেত্রে পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যেমনঃ
- গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকি
- জরুরি চিকিৎসাগত অবস্থা
- প্রতিবন্ধিতা
- অতিরিক্ত জনসংখ্যার ছোট বাসায় বসবাস
- শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি
- পারিবারিক সহিংসতার পরিস্থিতি
গুরুতর চিকিৎসা প্রয়োজন বা বিশেষ কল্যাণমূলক পরিস্থিতিতে আবেদনকারীরা দ্রুত অগ্রাধিকার পেতে পারেন।
সোশ্যাল হাউজ পেতে কত সময় লাগে?কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। এটি নির্ভর করেঃ
- কোন এলাকায় আবেদন করেছেন
- পরিবারের আকার
- বাড়ির প্রাপ্যতা
- অগ্রাধিকার অবস্থা
- অপেক্ষমাণ তালিকার চাপ
কিছু ক্ষেত্রো অনেক বছরও অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে ডাবলিন, কর্ক এবং অন্যান্য বড় শহরে অপেক্ষার সময় বেশি হতে পারে।
অপেক্ষমাণ তালিকায় নিজের অবস্থান দেখা যায় কিনা?কিছু কাউন্সিল অনলাইনে আবেদনকারীদের অপেক্ষমাণ তালিকার অবস্থা দেখার সুযোগ দেয়। কিছু এলাকায় আবেদনকারীরা নিজেদের আবেদন নম্বর, অবস্থা এবং কখনও কখনও অবস্থানও দেখতে পারেন। তবে সব কাউন্সিল একই ব্যবস্থা ব্যবহার করে না।
চয়েস ভিত্তিক বাড়ি নির্বাচন ব্যবস্থা কী?অনেক স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন এমন ব্যবস্থা চালু করেছে যেখানে অনুমোদিত আবেদনকারীরা অনলাইনে প্রকাশিত খালি বাড়ির তালিকা দেখে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। এতে আবেদনকারীরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বাড়ির জন্য আবেদন করতে পারেন।
সোশ্যাল হাউজ কি ভবিষ্যতে কেনা যায়?কিছু ক্ষেত্রে যায়। নির্দিষ্ট সময় ধরে কাউন্সিলের বাড়িতে বসবাস করলে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে পরবর্তীতে সেই বাড়ি কেনার সুযোগ থাকতে পারে। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিন্মের বিষয়গুলো বিবেচিত হয়ঃ
- দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াটিয়া হওয়া
- ন্যূনতম আয় থাকা
- ভাড়ার বকেয়া না থাকা
- প্রয়োজনীয় ঋণ বা অর্থের সক্ষমতা থাকা
তবে সব ধরনের বাড়ি এই সুযোগের আওতায় আসে না।
বাংলাদেশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শউৎসঃআয়ারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশী পরিবারগুলোর অনেকেই মনে করেন শুধু উচ্চ ভাড়া দিলেই সোশ্যাল হাউজিংয়ের জন্য যোগ্য হওয়া যায়। বাস্তবে কাউন্সিল আপনার প্রকৃত আবাসন প্রয়োজন, আয়, পরিবারের অবস্থা এবং বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেয়।
যদি পরিবারে শিশু থাকে, বাসা অত্যন্ত ছোট হয়, বাড়িওয়ালা বাড়ি বিক্রি করতে চান, উচ্ছেদের নোটিশ পাওয়া যায় অথবা স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে, তাহলে সব কাগজপত্র লিখিতভাবে সংরক্ষণ করুন। চিকিৎসকের চিঠি, স্কুলের তথ্য, ভাড়ার রসিদ এবং বর্তমান বাসস্থানের প্রমাণ আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন করার পর কাউন্সিলের চিঠি, ইমেইল এবং অনলাইন পোর্টাল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। প্রয়োজনীয় নথি সময়মতো না দিলে আবেদন বিলম্বিত হতে পারে।
সিটিজেনস ইনফরমেশন
আয়ারল্যান্ড সরকারের আবাসন বিভাগ
ডাবলিন সিটি কাউন্সিল
ফিঙ্গাল কাউন্টি কাউন্সিল
সরকারি আবাসন নির্দেশিকা