অন্যান্য

মদিনার ফজিলত, মর্যাদা এবং আমার ১৪ বছরের মদিনার জীবন

· · ৬৮ বার পঠিত
মদিনার ফজিলত, মর্যাদা এবং আমার ১৪ বছরের মদিনার জীবন

মদিনা মুনাওয়ারা এমন একটি শহর, যার মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে যতই বলা হোক না কেন, তা কমই হবে। দীর্ঘ ১৪ বছর মদিনায় বসবাসের সুবাদে আমি এই পবিত্র নগরীর অনেক বরকত ও সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। মদিনার ব্যাপারে পাঁচটি বিষয় বিশেষভাবে জানা জরুরি।

১. ইমান ও ইলমের আশ্রয়স্থল মদিনা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, নিশ্চয়ই ইমান মদিনায় ফিরে আসবে, যেমন সাপ বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘুরে নিজের গর্তে ফিরে আসে। এ থেকে বোঝা যায় যে কিয়ামত পর্যন্ত মদিনা ইমান ও ইলমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে থাকবে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দ্বীনের দুর্বলতা দেখা দিলেও মদিনা তার বিশেষ মর্যাদা বজায় রাখবে।

২. মদিনায় মৃত্যু ও রাসূল ﷺ এর সুপারিশ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি মদিনায় মৃত্যুবরণ করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন সেখানে মৃত্যুবরণ করার চেষ্টা করে। কেননা তিনি মদিনায় মৃত্যুবরণকারীদের জন্য সুপারিশ করবেন। অন্য হাদিসে এসেছে, যারা মদিনার কষ্ট ও কঠিন পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করবে, তাদের জন্যও তিনি সুপারিশ করবেন।

৩. মদিনার বিশেষ বরকত
রাসূল ﷺ আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, মক্কায় যে বরকত দেওয়া হয়েছে, মদিনায় যেন তার দ্বিগুণ বরকত দেওয়া হয়। এ কারণে মদিনার জীবনে ও পরিবেশে এক বিশেষ প্রশান্তি, রহমত ও বরকত অনুভূত হয়, যা সেখানে বসবাসকারী এবং আগত মুসলমানরা উপলব্ধি করেন।

৪. মদিনাবাসীদের ক্ষতি করার ভয়াবহ পরিণতি
সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি মদিনাবাসীদের ক্ষতি করার ইচ্ছা করবে বা তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে ধ্বংস করবেন যেমন লবণ পানিতে গলে যায়। এটি মদিনা ও মদিনাবাসীদের বিশেষ মর্যাদার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

৫. মসজিদে নববীতে সালাতের ফজিলত
মসজিদে নববীতে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় অন্যান্য সাধারণ মসজিদে এক হাজার ওয়াক্ত সালাত আদায়ের চেয়েও অধিক সওয়াবের কারণ। তাই মদিনায় অবস্থানকালে বেশি বেশি সালাত আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত করা এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ওপর দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মদিনায় অবস্থানকালে আমাদের অন্যতম করণীয় হলো বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা। এছাড়া রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রওজা মোবারকের সামনে উপস্থিত হয়ে সালাম প্রদান করা। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর কাছে উম্মতের সালাম পৌঁছে দেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় রাসূলুল্লাহ ﷺ সেই সালামের জবাব প্রদান করেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মদিনা মুনাওয়ারার প্রতি ভালোবাসা দান করুন এবং বারবার এই পবিত্র নগরী জিয়ারতের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপনারা হয়তো অনেকে জানেন না যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে রাসূল ﷺ এর খুব কাছাকাছি ১৪টি বছর রেখেছিলেন, ২০০৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত। আমি হেলথ মিনিস্ট্রিতে চাকরি করতাম। এই ১৪টি বছর ছিল আমার জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। আল্লাহ তাআলার বরকতের মধ্যে ছিলাম এবং হাজীদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছিলাম।

চাকরি স্থায়ী হওয়ার অনিশ্চয়তা, বিদেশি ডিগ্রি থাকার পরও ঠিকঠাক প্রমোশন না হওয়া এবং ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য আমি মদিনাতে থাকতে পারিনি। আল্লাহর ইচ্ছায় আগামী সপ্তাহে আবার মদিনাতে যাচ্ছি ওমরা করার জন্য পুরো পরিবার নিয়ে। সবাই দোয়া করবেন আমাদের জন্য, আমরা যেন সঠিকভাবে ওমরা পালন করতে পারি এবং রাসূল ﷺ এর রওজা জিয়ারত করতে পারি।

লেখকঃ
ডাঃ মুসাব্বির হোসাইন রুবেল
কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান, রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ড।

Enter চাপুন বা বাটনে ক্লিক করুন  ·  ESC দিয়ে বন্ধ করুন

EN
বিশ্ব কমিউনিটি বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড খেলাধূলা তথ্য প্রযুক্তি