মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে ইউরোপজুড়ে নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে আরও দ্রুত ঝুঁকছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব ইউরোপের শিল্পখাত, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের অভিজ্ঞতার পর ইউরোপ এবার তুলনামূলকভাবে প্রস্তুত থাকলেও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে ইতোমধ্যে ইউরোপের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অনেক দেশে সৌর ও বায়ু শক্তি এখন জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
এদিকে কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে প্রায় ৬০টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য নতুন রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিজেদের শিল্প ও প্রযুক্তি খাতকে শক্তিশালী করতে “Buy European” নীতির মতো নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং সবুজ অর্থনীতি এখন ইউরোপীয় রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা আগামী কয়েক বছর আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ প্রযুক্তির বাজার আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।