বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রশ্নে এখনো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। ফলে বিভিন্ন সময় শ্রমিক অসন্তোষ, আন্দোলন ও বিক্ষোভের ঘটনা আমাদের সামনে উঠে আসে।
বিশেষ করে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বঞ্চনা, অমানবিক কর্মপরিবেশ এবং অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ বহুদিনের। শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা, কর্মঘণ্টা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় এই খাতে অস্থিরতা প্রায় নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এই গার্মেন্ট শিল্প। দেশের বৈদেশিক আয়ের বড় অংশই আসে তৈরি পোশাক রপ্তানি এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে।
প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো এই রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বাস্তবতা হলো, বিদেশে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি শ্রমিককে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ভোগান্তি ও অবহেলার শিকার হতে হয়। বিদেশে অবস্থানকালে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়া, সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে না পারা, পাসপোর্ট নবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, বিমানবন্দরে হয়রানি কিংবা লাগেজ চুরির মতো ঘটনা তাঁদের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত স্বল্পশিক্ষিত ও অদক্ষ শ্রমিকদের অভিযোগ, অনেক সময় জরুরি পরিস্থিতিতেও দূতাবাস থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। পাসপোর্ট নবায়ন বা অন্যান্য কনস্যুলার সেবায় দীর্ঘ বিলম্বের কারণে অনেকে চাকরিক্ষেত্রে জটিলতার মুখোমুখি হন। এসব সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়, বরং দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শ্রমজীবী মানুষের প্রতি এক ধরনের অবিচারও বটে।
মহান মে দিবসে প্রত্যাশা থাকবে, দেশের শ্রমিকদের পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা, আইনি সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শ্রমিকবান্ধব নীতি ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা সম্ভব।