বিশ্ব

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তি দৌড়ে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য

· · ২৬৭ বার পঠিত
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তি দৌড়ে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI) প্রযুক্তিকে ঘিরে নতুন ধরনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলো এখন AI অবকাঠামো, সেমিকন্ডাকটার চিপ, ডাটা সেন্টার এবং এন্যার্জি সিস্টেমে নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দশকের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির বড় অংশ নির্ধারিত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারের ওপর।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু প্রযুক্তি খাতের বিষয় নয়; এটি অর্থনীতি, জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, “AI, energy এবং geopolitics” এখন একসঙ্গে বিশ্ব ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ ও ক্লাড ইনফ্রাষ্ট্রাকচার বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে বড় ধরনের রপ্তানি কৌশল গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে চীন নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইকো সিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করছে। Atlantic Council এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, AI নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রতিযোগিতা ২০২৬ সালে আরও তীব্র আকার নিতে পারে।

বিশ্বব্যাপী AI data centre নির্মাণের ফলে বিদ্যুৎ চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। Reuters এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন AI infrastructure পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হচ্ছে, যা জ্বালানি বাজার এবং জলবায়ু নীতির ওপরও চাপ তৈরি করছে। একই সময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টাও জোরদার হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা UNCTAD সতর্ক করেছে, AI বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উন্নয়ন মূলত কয়েকটি ধনী দেশ ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো নতুন “digital divide” এর ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতেও AI বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। IMF, OECD এবং UN এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, AI ভবিষ্যতে productivity বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে চাকরির ধরন বদলে যাওয়া, automation এবং labour market disruption নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI এখন “new industrial revolution” এর মতো একটি পরিবর্তনের সূচনা করেছে। যে দেশ AI infrastructure, semiconductor এবং digital governance এ এগিয়ে থাকবে, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতে তার প্রভাবও বেশি হবে।

তবে AI এর দ্রুত বিস্তার নতুন ঝুঁকিও তৈরি করছে। misinformation, cyber attack, AI-generated propaganda এবং surveillance technology নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। Atlantic Council সতর্ক করেছে, “AI poisoning” এবং AI-driven influence operation ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু প্রযুক্তির গল্প নয়; এটি অর্থনীতি, জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার নতুন লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরেই নির্ধারিত হবে AI বিশ্বকে আরও সমৃদ্ধ করবে, নাকি নতুন ধরনের বৈষম্য ও অস্থিরতার জন্ম দেবে।

Enter চাপুন বা বাটনে ক্লিক করুন  ·  ESC দিয়ে বন্ধ করুন

EN
বিশ্ব কমিউনিটি বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড খেলাধূলা তথ্য প্রযুক্তি