মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাত আবারও নতুন অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি সামরিক ঘটনা, কূটনৈতিক চাপ এবং Hormuz প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
Reuters এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে একটি অস্থায়ী সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং Hormuz প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump নতুন করে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনায় সমাধান না এলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও ব্যাপক সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী একটি Iranian-flagged oil tanker এ গুলি চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট Hormuz Strait নিয়েও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র “Project Freedom” নামে একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযান চালু করলেও পরে সেটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, বিদেশি সামরিক উপস্থিতিই এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে।
Washington Post এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে শতাধিক সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলও Lebanon এবং অন্যান্য অঞ্চলে হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। Hezbollah কে লক্ষ্য করে Beirut এ সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। Hormuz প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতির খবরে তেলের দাম কিছুটা কমেছে, তারপরও বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি খাত এখনো বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। তারা মনে করছেন, কূটনৈতিক আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি না হলে সংঘাত আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদে পড়বে।