দেশে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা, ভুয়া বিনিয়োগ স্কিম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং ফেসবুকভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ইউনিট জানিয়েছে, প্রতারক চক্রগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরির প্রলোভন, অনলাইন লোন কিংবা বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং অনিরাপদ অনলাইন ব্যবহারের সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে সরকার বিভিন্ন সরকারি সেবা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই ও মনিটরিং বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। তারা অচেনা লিংক, ভুয়া অফার এবং সন্দেহজনক অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এজন্য সমন্বিত নীতিমালা, দক্ষ জনবল এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।