উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দেশের বাজার, শিল্পখাত এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
সরকারি অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে এলেও নিত্যপণ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে ব্যয় এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে নন-ফুড ইনফ্লেশন কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে। গত এপ্রিল মাসে দেশে প্রায় ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বাংলাদেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিকল্পনা কমিশনের জেনারেল ইকোনমিকস ডিভিশন সতর্ক করে বলেছে, এর প্রভাবে বাণিজ্য ঘাটতি, ডলারের বিনিময় হার এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক চাপ বাড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং শিল্প উৎপাদনের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার এবং রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।